সমস্যা

টিন এজারদের অন্যতম প্রধান সমস্যা তাদের আবেগ। অভিজ্ঞতার অভাব তাদের ভারসাম্য বজায় রেখে কোন সিদ্ধান্ত নেবার পথে বাধা হিসেবে কাজ করে। আর আবেগের বশে নেয়া সিদ্ধান্ত অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিপর্যয় ডেকে আনে। আইপিএল এ মুস্তাফিজুর রহমানের অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে টি টুয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত সেই অপরিপক্কতাকেই সামনে নিয়ে আসে। 

সব কিছুর পরেও আইপিএল একটি ঘরোয়া টুর্নামেন্ট। অনেক দিন যাবৎ সেখানে পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণ করতে দেয়া হয় না। এতে কি আইসিসি কোন ভূমিকা রাখতে পেরেছে? তাহলে মুস্তাফিজের ব্যাপারে তারা কি করবে? এর আগে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অজুহাতে বিসিবি আইপিএল টুর্ণামেন্ট চলাকালীন মুস্তাফিজকে ডেকে পাঠিয়েছে। কেউ তো আইসিসির কাছে অভিযোগ করেনি।‌

এই যে অতিরিক্ত আবেগে ভেসে আমরা নিজেদের এমন ভাবে কোনঠাসা করে ফেললাম যে যেকোনো সিদ্ধান্তই আমাদের শাঁখের করাতের মত কাটবে। সবকিছুর পরে ভারতে গিয়ে খেলা আমাদের এগোতে লাগবে। না খেললে শুধু আর্থিক ক্ষতি নয় বাংলাদেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ প্রশ্নের সম্মুখীন হবে। আমরা কোন দিকে যাব? এটা ভারতের জন্য হবে না, হবে সমস্ত ঘটনাটি হ্যান্ডেল করতে আমাদের ব্যর্থতার জন্য। স্মরণ করা যেতে পারে যে গত বছর নিলামে অংশ নিয়ে দল পাবার পরেও ইংল্যান্ডের কথা মাথায় রেখে হ্যারি ব্রুক নিজেকে উইথড্র করে নেয়। ফলে তাকে আইপিএলে নিষিদ্ধ করা হয়। ইসিবি কি এ নিয়ে আইসিসির কাছে গেছে?

বিগত দেড় বছরে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকারের একের পর এক ভুল সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাংলাদেশ ও দেশের মানুষ। তাই আইসিসি, বিসিসিআই বা আইপিএল নয়, প্রশ্ন করতে হবে নিজেদের সরকারকে। সরকারের সার্বিক অদক্ষতা ও অযোগ্যতাই সমস্ত সমস্যার মূল।

দুবনা, ০৭ জানুয়ারি ২০২৬


Comments

Popular posts from this blog

প্রশ্ন

সিপিবি কংগ্রেস

রিংকু