Posts

উত্তর বিহীন

Image
প্রায় প্রতিদিনই ইউক্রেনে সেনা রিক্রুটের দৃশ্য দেখা যায়।‌ না, এটা রুশদের ভিডিও নয়, পশ্চিমা সাংবাদিক বা স্থানীয় ভুক্তভোগীদের করা। প্রায়ই দেখা যায় যাদের রিক্রুট করা হচ্ছে তাদের শারীরিক ও মানসিক দুরাবস্থার চিত্র। বোঝা যায় যদি যুদ্ধের ময়দানে গিয়ে পৌঁছেও তারা যাচ্ছে নিশ্চিত মৃত্যুর পরোয়ানা হাতে নিয়ে। এই যে একটা জাতিকে ঠান্ডা মাথায় সে দেশের সরকার ধ্বংস করছে এটা কি জেনোসাইড নয়? তথাকথিত যে সভ্য বিশ্ব ইউক্রেনের শেষ মানুষটি পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চাইছে তারাই কি ইউক্রেন জাতির জেনোসাইডের জন্য দায়ী নয়? আসলে সভ্য বিশ্ব এশিয়া, আফ্রিকা, ল্যাটিন আমেরিকা, এমনকি নর্থ আমেরিকায় বিগত কয়েক শ'বছরে যে গণহত্যা চালিয়েছে তার দায়িত্ব কি স্বীকার করেছে? হয়তো এভাবেই আরও একটি জাতি একদিন পৃথিবীর বুক থেকে হারিয়ে যাবে। আর সেজন্য কেউই দায়ী হবে না, অন্ততপক্ষে আসল কালপ্রিটরা তো নয়ই। দুবনা, ০৬ অক্টোবর ২০২৬

জনতার রায়

Image
নিজের ব্যর্থতা অন্যের ঘাড়ে চাপিয়ে মানুষকে কিছু দিন ধোঁকা দেয়া যায়। কিন্তু সব ব্যর্থতার জন্য অন্যের দিকে আঙুল তুললে প্রশ্ন জাগে তুমি তাহলে কি জন্য ক্ষমতায় বসে আছ হে বাছাধন? এটা আমাকে ছোটবেলায় শোনা কামলার গল্প মনে করিয়ে দেয়। এক গৃহস্থের বাড়িতে অনেকেই কাজ করে। এদের একজন কানা। একদিন সেই গৃহস্থ জমিতে গিয়ে দেখেন চারিদিকে অরাজকতা। - এটা কে করেছে? - কানা। - এটা? - এটাও কানা। এভাবে যেখানেই দেখায় সেটাই কানার দোষ। শেষ পর্যন্ত গৃহস্থ বললেন, সবই যদি কানা করে তোমাদের রেখেছি কি করতে? ইউরোপের সব ব্যর্থতার জন্য প্রতিটি দেশের সরকার দায়ী করে পুতিনকে। এখন মনে হয় ইউরোপের জনগণ প্রশ্ন করতে শুরু করেছে মস্কোয় বসে পুতিন যদি তাদের দেশের কলকব্জা নাড়াতে পারেন তাহলে এই সব রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীদের এত টাকা দিয়ে পুষে কি লাভ? হয়তো সেজন্যেই দেশে দেশে বিরোধীরা জনসমর্থন লাভ করছে। মস্কো, ০৫ অক্টোবর ২০২৬

ভোট

Image
রাশিয়ায় পার্লামেন্ট নির্বাচন হচ্ছে। শুক্রবার বার কামচাতকা সময় সকাল ০৮.০০ টায় শুরু, আজ কালিনিনগ্রাদ সময় সন্ধ্যা ২০.০০ শেষ। পার্লামেন্টের পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে স্থানীয় নির্বাচন হচ্ছে। রাশিয়ায় বছরে দুইবার এরকম নির্বাচন হয় - মার্চের তৃতীয় শুক্রবার থেকে রবিবার আর সেপ্টেম্বরের তৃতীয় শুক্রবার থেকে রবিবার। ভোট দেয়া যায় কেন্দ্রে গিয়ে অথবা অনলাইনে। ভোট দিয়েছি গতকাল, অনলাইনে। দুটো, একটি দলকে আরেকটি প্রার্থীকে। প্রার্থীদের আগে বিজয়ের জন্য ৫০%+১ ভোট লাগত, এখন যে বেশি ভোট পায় তাকেই বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। আসলে ৫০%+১ ভোট অনেক প্রতিনিধিত্ব মূলক। তবে এক্ষেত্রে প্রায়ই দ্বিতীয় ট্যুরের আয়োজন করতে হয়। সেটা ব্যয়বহুল। তারচেয়েও বড় কথা দ্বিতীয় ট্যুরে ভোটারদের উপস্থিতি আশঙ্কাজনক ভাবে কম। আজ মস্কো সময় রাত ২২.০০ থেকে ফলাফল প্রকাশ শুরু হবে। মস্কোর পথে, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সমস্যা

Image
প্রতিটি সিস্টেম অনেকগুলো পার্টস নিয়ে গঠিত। সিস্টেম যত জটিল তার পার্টসের সংখ্যা তত বেশি। মানুষের বা প্রাণীর যেযন হাত, পা, হার্ট, কিডনি, লিভার - দেশের তেমনি জনগণ, রাজনৈতিক দল, প্রশাসন, বিচার বিভাগ ইত্যাদি। শরীরের কোন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকল হলে মানুষ যেমন পঙ্গু হয়ে পড়ে দেশও তাই। বাংলাদেশের সমস্যা তার রাজনৈতিক দলে আর রাজনীতির সাথে ধর্মের অবৈধ সহবাসে। এক এক জন মানুষ মারা যায়, দেশ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা গায়েব হয়ে যায় - আমরা দুই তিন চার দিন এর বিরুদ্ধে ফেসবুকে লিখে, দুই চারটি বিবৃতি দিয়ে দায় শেষ করি। কিন্তু এসবের উৎস সেই রাজনৈতিক দল, ধর্ম ব্যবসায়ী, মাদ্রাসা শিক্ষা এসবের ব্যাপারে স্পিকটি নট। এভাবে আর যাই হোক, সমস্যার সমাধান হয় না, হবে না। দুবনা, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুদ্ধ না শান্তি?

Image
সত্যিকারের জনবান্ধব ও সরকার চায় জনগণকে চিন্তা মুক্ত রাখতে, তাদের কর্ম সংস্থান ও মানসিক শান্তি নিশ্চিত করতে। শুনলাম বৃটিশ সরকার নাকি দেশের মানুষকে টিনজাত খাবার কিনে রাখার নির্দেশ দিয়েছে। যুদ্ধের জন্য মানসিক ভাবে প্রস্তুত হতে বলেছে। ফিনল্যান্ড সহ ইউরোপের অন্যান্য দেশে পারমানবিক আঘাত থেকে রক্ষা পাওয়ার সম্ভাবনা বাঙ্কার তৈরি করা হচ্ছে। কিন্তু এরা কি জানে এমন যুদ্ধ হলে বাঙ্কার সাময়িক ভাবে রক্ষা করলেও পরবর্তী জীবন হবে মৃত্যুর চেয়েও দুঃসহ? হিরোশিমা, নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা হামলা, ভিয়েতনামে নাপাম বোমা বৃষ্টি ও সম্প্রতি যুগোস্লাভিয়ায় বোমায় অল্প পরিশোধিত ইউরেনিয়াম ব্যবহার কি তাদের কিছুই শেখায় না? যেখানে যুদ্ধ এড়ানোর জন্য কথা বলা দরকার, শান্তি চুক্তি করা দরকার, সেখানে ইউরোপ শুধু উত্তেজনা বৃদ্ধি করেই চলছে। স্যুটেড বুটেড ও ভার্সিটির ডিগ্রি থাকলেই আর উন্নত দেশের রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকলেই যে মানুষ আধুনিক ও বাস্তববাদী হয় না, বর্তমান পশ্চিমা এস্টাবলিশমেন্ট তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। দুবনা, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রশ্ন

Image
সাংবাদিক পূলক চ্যাটার্জিকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। এটা কি আত্মহত্যা নাকি হত্যা? এই প্রশ্ন অনেকের মনে। সরাসরি হত্যা করলেই শুধু কাউকে খুনের অপরাধে অপরাধী সাব্যস্ত করা হয়, কিন্তু কাউকে যদি নিজের প্রাণনাশ করতে বাধ্য করা হয় সেটা কি হত্যা নয়? সাম্প্রতিক কালে অনেকেই এভাবে আত্মহত্যা করছে যাদের জীবনের সাথে হিসাবনিকাশ চুকানোর কোন কথা ছিল না। তাই প্রশ্ন জাগে পুলিশের এই প্রাথমিক ভাষ্য কতটুকু সত্য? এটা সত্যিকার খুনীদের আড়াল করার প্রচেষ্টা নয়তো? আর কাকতালীয় ভাবে, যারা এভাবে বেঘোরে প্রাণ হারাচ্ছে, তাদের একটা বড় অংশ একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের মানুষ যাদের অস্তিত্ব অনেক দিন ধরেই হুমকির সম্মুখীন। হ্যাঁ, এরা বাঙালি হিন্দু যারা বাংলা সংস্কৃতির আরবায়নের পথে বিরাট বাধা। সমস্যা হল এজন্য তাদের কিছুই করতে হয় না। শুধু নিজের ইতিহাস, ঐতিহ্য অনুসরণ করে বেঁচে থাকলেই বাধাটা আপনাআপনি তৈরি হয়ে যায়। এরা আজ ক্রম ক্ষয়িষ্ণু। অন্ততঃ পরিসংখ্যান ও নিরপেক্ষ গবেষণা সেটাই বলে।  এই বিষয়ে আমার মনে বেশ কিছু প্রশ্নের অবতারণা হয়েছে। তার একটা নিয়ে এখন লিখছি। বর্তমানে বাংলাদেশের রাজনীতির কলকাঠি নড়ে মূলতঃ ওয়াশিংটন আর...

১১ সেপ্টেম্বর

Image
১১ সেপ্টেম্বর ২০০১। তখন সামাজিক মাধ্যম ছিল না বললেই চলে। ইন্টারনেট ব্যবহার করতাম মূলত গবেষণার কাজে আর চিঠিপত্র লিখতে। এর বাইরে মাঝে মধ্যে অনলাইনে ক্রিকেটের খবর পড়তাম ক্রিকইনফো থেকে, বিবিসি, সিএনএন, হিন্দু এসব সাইটে দেশ বিদেশের খবর পড়তাম।  আমি অফিস থেকে বেরুতাম ছয়টার পরে। মনিকাকে স্কুল থেকে নিয়ে বাসায় ফিরতাম একসাথে। সেদিন এরকম বসে বসে কাজ করার ফাঁকে হঠাৎ হিন্দুতে দেখলাম ইউ ইয়র্ক আক্রমণের খবর। ব্যবস্ততার কারণে তেমন মনোযোগ দেইনি। বলতে গেলে আসলে বুঝতেই পারিনি কি হচ্ছে। শুধু সেই বিখ্যাত ছবি আর দুই চার লাইন কমেন্টারি। আসলে এরকম আক্রমণ যে হতে পারে সেটা ছিল কল্পনার বাইরে। তাই গুরুত্ব দেইনি।  সে সময় ভ্লাদিমির মিখাইলোভিচ দুবোভিক থাকতেন মনিকার স্কুলের পাশেই। কি মনে করে ওনার বাসা হয়ে যাওয়া ঠিক করলাম। ঢুকতেই উনি বলে উঠলেন তৃতীয় বিশ্ব যুদ্ধ শুরু হয়ে গেল মনে হয়। টিভি পর্দায় দেখা যাচ্ছিল নিউ ইয়র্কে জ্বলন্ত টুইন টাওয়ার। হঠাৎ যেন আমার স্বাভাবিক চিন্তাশক্তি লোপ পেল। একটাই চিন্তা এখন কিভাবে মনিকাকে নিয়ে বাসায় ফিরব। বাসা মোটামুটি এক কিলমিটার দূরে। ওখানে গুলিয়া, আন্তন আর ক্রিস্তিনা।   ...

স্মৃতি

Image
ঘুম ভাঙতেই নজরুল ভাইয়ের মৃত্যু সংবাদ শুনলাম। প্রফেসর নজরুল ইসলাম। বুয়েটের শিক্ষক। প্যাট্রিস লুমুম্বা গণ মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট‌। ফিজম্যাথ ফ্যাকাল্টি মানে আমার ফ্যাকাল্টির। আমি যখন মস্কো আসি উনি দীপাদি সহ মসফিল্মে থাকতেন। আমাদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দেখা হত। আমাদের শেষ দেখা আমার রুমে, ২ নং ব্লকের ৫১০ নম্বর রুমে। কি একটা উপলক্ষ্যে আমার রুমে একটা আড্ডার আয়োজন হয়েছিল। আমার ডিফেন্স কি? ঠিক মনে নেই। নজরুল ভাই এসেছিলেন দেশ থেকে। মাঝখানে বাইরে গেলেন অরুণ দা, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অরুণ দেবের সাথে দেখা করতে। উনিও তখন মস্কো ছিলেন। পরিচয় ছিল না। কথা ছিল অরুণ দাকে নিয়ে আসবেন। পরে ২০১১ সালে অরুণ দার সাথে মস্কোয় দেখা হয়। কিন্তু নজরুল ভাইয়ের সাথে আর দেখা হয়নি। ২০১১, ২০১৪ ও ২০১৬ সালে সাবের পিকনিকে গেছি, দীপা দির সাথে দেখা হয়েছে। কিন্তু নজরুল ভাইয়ের সাথে দেখা হয়নি। কিছু লোকের সাথে হয়তো তেমন ইন্টাব়্যাকশন হয় না, তারপরেও তারা স্মৃতিতে উজ্জ্বল হয়ে জেগে থাকেন। আমার জন্য নজরুল ভাই তেমন একজন মানুষ। কেন? নিজেও জানি না।‌ আজ তিনি শুধু স্মৃতি হয়ে গেলেন। দুবনা, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ...

সুখ

Image
আজকাল আমার আনন্দের সীমা নাই। থাকিবেই বা কেন? আনন্দ বিঘ্নিত হয় তখনই যখন মানুষকে চিন্তা ভাবনা করিতে হয়। আমার এখন কোন চিন্তা নাই, কোন ভাবনা নাই। নিজের আর চিন্তা ভাবনা করিবার প্রয়োজন নাই। মাঝে মাঝে মনে হয় অযথাই মাথাটাকে কাঁধের উপরে বসাইয়া রাখিয়াছি আর সে ঠ্যাং দুলাইয়া দুলাইয়া চুরুট ফুঁকিয়া বায়ুদূষণ করিতেছে। জীবন এত সহজ হইয়া গিয়াছে যে চিন্তা ভাবনা এখন শৌখিন বিষয়ে পর্যবসিত হইয়াছে। বিশ্বাস হইতেছে না? তাহা হইলে খুলিয়া বলা যাক। ধরেন, বাস স্ট্যান্ডে দাঁড়াইয়া আছি, বাস নিজে আমার হাত ধরিয়া তুলিয়া লইয়া যায়, সীট ফাঁকা থাকিলে বসাইয়া পর্যন্ত দেয়। দোকানে গেলে আলুটা পটলটা, এমনকি মাছ মাংস পর্যন্ত লাফাইয়া লাফাইয়া আমার ব্যাগে ঢুকিয়া পড়ে। ব্যাংকের ম্যানেজাররা টাকার বস্তা লইয়া পিছনে পিছনে ঘুর ঘুর করে। আমিও ভাবি বাঁচিয়া থাকিব তো আর কয়েকটা দিন। তাহা হইলে কি হইবে কৃচ্ছতা সাধন করিয়া। আজকাল মাঝে মাঝে বিভিন্ন জায়গায় বেড়াইতে যাইতে ইচ্ছা করে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলিয়াছেন বোয়িং বিমান কিনিবার জন্য। ওনার গ্যারেজে নাকি এইসব বিমানের শেষ নাই। বলিয়াছেন টাকা পয়সার চিন্তা করিতে হইবে না। ওন...

লড়াই

Image
আমরা ভুলে যাই যে কোন দল এমনকি সেন্ট পার্সেন্ট ভোট পেয়ে নির্বাচিত হলেও দেশ বনে যায় না। কিন্তু প্রায় সব সরকারি দল, বিশেষ করে সরকারি দলের অদূরদর্শী নেতা ও অন্ধ বিশ্বাসী কর্মীরা ধরেই নেয় যে তারাই দেশ আর তাদের সমালোচনা মানেই দেশদ্রোহিতা। এভাবেই আমরা নিজেদের প্রয়োজনে খুশি মত সংজ্ঞা বদলাই। এভাবে চললে পৃথিবীর সব শাসকই কারো না কারো কাছে হবে স্বৈরাচারী বা গণতন্ত্রের মানস পুত্র, মানস কন্যা, পিতা, মাতা, এমনকি স্বামী/ স্ত্রী। এই পথ সামনে নেয় না, এটা পথের শেষ যার কোন ওপার নেই। বিরোধী মত শুধু শত্রু নয়, প্রতিপক্ষ এবং ক্ষেত্রবিশেষে আরও একটা বিকল্প, সমস্যা সমাধানের ইঙ্গিত। তাই ভিন্ন মতকে হত্যার আগে যাচাই করে দেখা দরকার যা হতে পারে বিকল্প, এমনকি উৎকৃষ্ট সমাধান। কিন্তু রাজনীতি যেখানে ক্ষমতা দখলের লড়াই সেখানে তাদের কাছ থেকে মহানুভবতা আশা করার সুযোগ কোথায়?  লড়াই লড়াই লড়াই চাই  লড়াই করে মরতে চাই।। দুবনা, ৩০ আগস্ট ২০২৬

প্রশ্ন

Image
পাকিস্তান আমলে এই অঞ্চলের প্রগতিশীল আন্দোলন বেঁচে ছিল মূলত সংখ্যালঘুদের হাতে। আত্মগোপনের তাগিদে নাম ও খাদ্যাভ্যাস বদলালেও তাদের চরিত্র বদলায় নাই, মনে প্রাণে তারা ছিল অবিভক্ত ভারতের নাগরিক, কয়েক হাজার বছরের স্থানীয় ইতিহাস ও ঐতিহ্যের উত্তরাধিকারী। এখনও বাংলাদেশের বাম রাজনীতি ও সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলে আনুপাতিক হারে এই সংখ্যালঘুরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। অন্তত বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের শিল্পীদের নামের তালিকা দেখলে সেই ধারণাই হয়। তাই চব্বিশের পর এদের উপর আক্রমণ বাম নেতারা যখন আওয়ামী লীগের উপর আক্রোশ জনিত কারণে বলে রায় দেয় তখন মনে বিভিন্ন প্রশ্ন জাগে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, জয় বাংলা শ্লোগান এসবের সাথে হিন্দুদেরও আওয়ামী লীগের জিম্মায় রেখে তারা বলতে চায় আওয়ামী লীগ এসব কুক্ষিগত করেছে তাই এদের উপর আক্রমণ, এদের অবমাননার সব দায় আওয়ামী লীগের। এই যে রংপুরে এত বড় হৃদয় বিদারক ঘটনা ঘটে গেল এ নিয়ে তাদের কোন বক্তব্য বিবৃতি চোখে পড়ল না। নাকি এই চারটি (আসলে এমন শত শত হাজার হাজার) প্রাণের দাম এক ফেলানীর চেয়ে কম। না, ফেলানী প্রতি আমারও সহানুভূতির কমতি নেই। সমস্যা হল ফেলানী নিজেও পরিস্থিতি ও রাজনীতি...

ঠুঁটো জগন্নাথ

Image
রংপুরে গণপতি চক্রবর্তী সপরিবারে নিহত হলেন। এটা কি সাম্প্রদায়িক হত্যা? মোটিভ যাই হোক গণপতি নাম যে এতে কোন ভূমিকা পালন করেনি সেটা বিশ্বাস করা কষ্টকর।  বাঘ মহিষ বা হরিণ বিদ্বেষী কিনা জানি না, তবে তার সামনে দুটো অপশন থাকলে সে হরিণকে বেছে নেবে। সে হরিণকে বেশি অপছন্দ করে বা হরিণের মাংস তার প্রিয় বলে নয়। হরিণকে শিকার করা বেশি নিরাপদ বলে।  বাংলাদেশেও হিন্দু হত্যা বেশি নিরাপদ। সরকার গায়ে মাখবে না, জনগণের খুব ছোট একটি অংশ এর প্রতিবাদ করবে আর সবচেয়ে বড় কথা হিন্দুরা নিজরাও প্রতিরোধ গড়ে তুলবে না, বরং চেষ্টা করবে নিজের নিজের প্রাণ রক্ষায় দেশ ছেড়ে চলে যেতে।  ভোট, নিজের নিজের ধর্মীয় অবস্থান এসব বিবেচনায় নিয়ে সরকার হয়তো ভাবে তারা উইন উইন সিটুয়েশনে রয়েছে, কিন্তু এর ফলে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি এতটাই ধূলিসাৎ হয় যে সে রাষ্ট্রের সরকার হওয়া লজ্জাকর হয়ে দাঁড়ায়। সরকার যদি নিজেকে লজ্জাকর অবস্থায় ফেলতে না চায়, সরকার যদি বিশ্বাস করে সে সত্যি সত্যি রাষ্ট্রের সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করে, তবে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার করা ও খুনিদের উপযুক্ত শাস্তি দেওয়ার দায়িত্ব সরকারকেই ন...

মানুষখেকো

Image
রাশিয়ায় ভালুকের উৎপাত সবসময়ই ছিল। ভালুক নিয়ে এদের রূপকথার অভাব নেই। তবে ইদানিং ভালুকের উৎপাত নতুন করে শুরু হয়েছে। এমনকি মস্কো বিভাগের বিভিন্ন জায়গায় ভালুকের দর্শন মিলেছে। ওদের মূল খাবার পাইন বাদাম। ওটা খুব খাদ্যমান সম্পন্ন ও খুব দামী। আর যেখানেই আর্থিক লাভের সম্ভাবনা সেখানেই মানুষের সাথে জীবজন্তুর সংঘাত। বন্যা ও অগ্নি দাহের কারণে বনে খাদ্যের আকাল। ভালুকেরা তাই গ্রাম আর শহরে আসছে জীবিকার সন্ধানে। মানুষের মুরগিটা বা খরগোশটা নিয়ে চলে যাচ্ছে ট্যাক্স হিসেবে। এক কথায় জোর যার মুল্লুক তার।  এখন গ্রীষ্ম কাল। প্রচুর লোকজন হাইকিং এ যায় এসময়, বনের আশেপাশে তাবু খাটিয়ে রাত কাটায়। এটা সস্তা ও রোমান্টিক। কয়েক দিন আগে আলতাই এলাকায় এক ভালুক এরকম এক তাবু থেকে এক মেয়েকে উঠিয়ে নিয়ে গেছে। তার বন্ধু ও সঙ্গীরা অনেক চেষ্টা করেও মেয়েটিকে রক্ষা করতে পারেনি। পরে তার উচ্ছিষ্ট পাওয়া গেছে বনের ভেতর। রাশিয়ায় বন্য জীবজন্তু শিকারের ব্যপারে বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা আছে। ফলে ভালুকের সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে। তবে এই ঘটনার পর কর্তৃপক্ষ কিছু লাইসেন্স দিতে শুরু করেছে। আর যে ভালুকটি মানুষ হত্যা করেছে সেটা ধর...

রিপু

Image
  মানুষ প্রতিনিয়ত কাম-ক্রোধ-লোভ-মোহ-মদ-মাৎসর্য  দ্বারা আক্রান্ত। কোনটি সব চেয়ে বেশি ভয়ংকর? এরকম প্রশ্ন প্রায়ই শোনা যায়।  আমার মনে হয় প্রশ্নটি যথাযথ নয়।‌ কারণ যে দোষগুলোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে তার কোনটাই  অপ্রয়োজনীয় নয়, সব দরকারি, তবে সঠিক সময়ে সঠিক ব্যবহারে। কাম না থাকলে কি ভালোবাসা এই রকম থাকত? ধর্ষকের কাম আর প্রেমিক প্রেমিকার কাম এক নয়। ক্রোধ শুধু বিপদ ডেকে আনে না, অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে সাহস যোগায়। লোভ তো শুধু অন্যায় ভাবে অন্যেরটা দখল করা নয়, কোন কিছু অর্জন করতে মানুষকে কর্মঠ করে তোলে। আসলে অসময়ে ব্যবহার বিপদ ডেকে আনে, সময়ে আনন্দ ও সাফল্য। এসবই মানব চরিত্রের সহজাত উপাদান। সঠিক ও সুচিন্তিত ব্যবহারে এসবই মানব সমাজকে সামনের দিকে এগিয়ে নেয়ার চালিকা শক্তি।  উল্টো উদাহরণ কম নেই। যেমন ক্ষমা মহৎ গুণ। কিন্তু যাকে শাস্তি দেওয়া ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য অপরিহার্য তাকে ক্ষমা করলে শুধু নিজেকে নয়, জাতিকে পস্তাতে হয়। এমন উদাহরণ ইতিহাসে ভুঁড়ি ভুঁড়ি। আসলে যা মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি তা ভালো বা মন্দ হয় অপব্যবহারে।  দুবনা, ২২ আগস্ট ২০২৬

বিদ্যুৎ

Image
ফেসবুকে দেখলাম বিদ্যুৎ সমস্যার জন্য বর্তমান সরকার স্বৈরাচারকে দায়ী করছে। শেখ হাসিনার শাসনামলে দেশে দুর্নীতি, মৌলবাদ, রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা এসব আগাছার বাম্পার ফলন যে হয়েছিল তাতে সন্দেহ নেই, তবে সেই সাথে বিদ্যুৎ, যোগাযোগ সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়ন কম হয়নি। সেই আমলের অনেকেই টাকা পয়সা বিদেশে পাচার করলেও বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও অন্যান্য ইনফ্রাস্ট্রাকচার তো দেশেই রয়ে গেছে। আর সেসব অকেজো হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে। নিজেদের ব্যর্থতার দোষ অন্যের কাঁধে চাপিয়ে কিছু সময় পার করে দেয়া যায় কিন্তু তাতে সমস্যার সমাধান হয় না। আর সরকার যদি দীর্ঘদিন এসব সমস্যার সমাধান করতে ব্যর্থ হয় তখন সেটা আর স্বৈরাচারের ঘাড়ে চাপানো যাবে না। প্রতিটি রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় আসে আগের সরকারের ব্যর্থতার কাঁধে ভর করে সেই সব ব্যর্থতা দূর করে জনগণকে সুখে স্বাচ্ছন্দ্যে রাখতে। কিন্তু জনজীবনের সাধারণ দাবি মেটাতে ব্যর্থ হয়ে সেই দোষ পূর্ববর্তী সরকারের কাঁধে চাপানোই যদি সরকারের একমাত্র যোগ্যতা হয় তাহলে সেই সরকার নিয়ে জনগণের কি লাভ হবে? ব্যর্থতা ঢাকতে স্বৈরাচারী কাঁধ না খুঁজে যোগ্য লোক খুঁজলে আর নিজের কাঁধে দায়িত্ব নেবার স...

চেতনা

Image
গতকাল মস্কো এসেছিলাম বঙ্গবন্ধুর মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত শোক দিবসে অংশগ্রহণ করতে। গত বছরও এসেছিলাম। আগে আসা হত না, কারণ আওয়ামী লীগ, ছাত্র লীগ ও বঙ্গবন্ধু পরিষদের বন্ধুদের অনেকেই আমার বক্তব্য ঠিকঠাক হজম করতে পারত না। তবে চব্বিশের পর থেকে পরিস্থিতি বদলে গেছে। প্রতিক্রিয়া হলেও সেটা তাৎক্ষণিক নয়। তাই মন খুলে নিজের কথা বলা যায়।  আমার কথা বলার সুযোগ হয় আওয়ামী লীগের মস্কো শাখার সভাপতি ও আয়োজক বঙ্গবন্ধু পরিষদ রাশিয়া শাখার সভাপতির আগে, তাই ইতিমধ্যে অনেকের বক্তব্য শোনার সুযোগ হয়। ফলে আমার বক্তব্য সেসব কথার প্রেক্ষিতেই বলি।  খেয়াল করলাম আমরা সবাই একটা কাঁধ খুঁজি নিজের ব্যর্থতার বোঝা চাপিয়ে দেবার জন্য। ঈশ্বরের পর সেই গুরু দায়িত্ব পালন করে আমেরিকা। দেশের প্রেক্ষাপটে আওয়ামী ভার্সনে তা বিএনপি, জামায়াত ও অন্যরা। আমরা ভুলে যাই যে কোন বিরোধী দলের কাজ সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা। তারা সে কাজে সফল হয় সরকারের ব্যর্থতাকে ব্যবহার করেই। এই ব্যর্থতা শুধু চব্বিশের নয়, বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক পরিবেশ বিষাক্ত করে, মৌলবাদীদের তোষণ করে আওয়ামী লীগ নিজেই নিজেকে এই অবস্থায় নামিয়ে এনেছে। ...

মহীরুহ

Image
শুধু বাংলাদেশ বা উপমহাদেশই নয়, সমগ্র বিশ্বই বর্তমানে এক দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত। এর নাম অতীত অস্বীকার করা, অতীত মুছে ফেলা। যদিও হাজারো চেষ্টা করেও অতীত মুছে ফেলা যায় না, আমাদের বর্তমানই অতীতের সাক্ষ্য হয়ে অতীতকে জীবন্ত করে তোলে, তারপরেও অতীতকে ভুলিয়ে দেয়ার বৃথা চেষ্টায় আমরা শুধু সময় নষ্টই করি না, এক ছিন্নমূল ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তুলি। পরগাছা যেমন গাছ শুষে গাছের সাথে একদিন নিজেও শুকিয়ে যায়, ছিন্নমূল প্রজন্ম তেমনি দেশকে শোষণ করে একদিন দেশ হারিয়ে ফেলে। একজন মানুষ চাইলেই যেমন তার শৈশব, যৌবন, সাফল্য, ব্যর্থতা কোন কিছুই বাদ দিয়ে বর্তমানে পৌঁছুতে পারে না, একটি দেশ ও জাতিও ঠিক তাই।  পঁচাত্তরের পর শেখ মুজিবের নাম মুছে ফেলার চেষ্টা হয়েছিল। পেরেছে কি? অথবা বিগত সরকারের আমলে জিয়ার নাম? এরকম হাজার হাজার মানুষের নাম, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে, পরবর্তী পর্যায়ে দেশ গড়তে বা ভাঙতে অবদান রেখেছে, তা সে শেখ মুজিবুর রহমান হোক, জিয়াউর রহমান হোক, খন্দকার মোস্তাক, ডঃ ইউনুস বা যেই হোক - কেউ চাক আর না চাক, এই ভূমির ইতিহাসের সাথে জড়িয়ে থাকবে। মীর মদন, মীর মোহন বা মীর জাফর - এদের...

সোনায় সোহাগা

Image
ফেসবুকে এক বিজ্ঞানীর সাক্ষাৎকার শুনলাম। মাদ্রাসা ছাত্র এই বিজ্ঞানী বলতে গেলে প্রায় বিনা খরচে বিদ্যুৎ খনি আবিষ্কার করছে যার উৎস মাধ্যাকর্ষণ শক্তি। যদিও তার অনেক ভাবনা প্রথাগত পদার্থবিজ্ঞানের সাথে যায় না, তার পরেও এতে কিছু পজিটিভ দিক আছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী সে কোরআন থেকে এই তত্ত্ব আবিষ্কার করেছে। শুধু তাই নয় পদার্থবিজ্ঞানের এরকম শত শত তত্ত্ব সেখানে আছে। যদি তাই হয় তাহলে বলতেই হবে ধর্ম প্রচারক ও ধর্ম ব্যবসায়ীরা যারা কথায় কথায় কোরআনের উদ্ধৃতি দেয় তারা সঠিক মনোযোগ দিয়ে তা পড়ে না। আর যেহেতু বিজ্ঞান মানেই প্রশ্ন করা তাহলে কোরআন নিয়ে নতুন করে গবেষণার সুযোগ আছে। এটা নিঃসন্দেহে পজিটিভ দিক। দ্বিতীয় যে বিষয়টি আমার মনোযোগ আকর্ষণ করেছে তা হল ২০১১ সালের একটি ঘটনা। সেবার আমি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান ও গণিত গবেষণা কেন্দ্রে প্রফেসর জামাল নজরুল ইসলামের আমন্ত্রণে কসমোলজির উপর প্রবন্ধ উপস্থাপন করি। পরে আমরা যখন লাঞ্চ করছিলাম স্যারের এক ছাত্রী বেশ জোরের সাথেই বলল, "স্যার, ডঃ সাহা যা বললেন সবই তো কোরআনে লেখা আছে।" বাংলাদেশের একটি নামকরা ইনস্টিটিউটে একজন বিশ্বখ্যাত গবেষ...

নদী

Image
হেরাক্লিটাস খ্রিষ্টপূর্ব ৬-৫ শতাব্দীতে বলেছেন এক নদীতে দুইবার প্রবেশ করা সম্ভব নয়। এখন অবশ্য বিজ্ঞান প্রযুক্তির যুগ। ইউরোপের রাজনীতিবিদরা হেরাক্লিটাসকে মিথ্যা প্রমাণ করতে বদ্ধপরিকর। ইউরোপ যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। পোল্যান্ড, জার্মানি - উভয়েই ঘোষণা দিয়েছে ইউরোপের সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনী গড়ে তোলার।  মনে পড়ল সোভিয়েত ইউনিয়নের কথা। আমেরিকা যুদ্ধ করেনি সোভিয়েত ইউনিয়নের সাথে, অন্ততঃ সম্মুখ সমরে নামেনি। কিন্তু অস্ত্র প্রতিযোগিতায় নামিয়ে সোভিয়েত অর্থনীতির লাল বাতি জ্বালিয়ে দিয়েছিল। কোন গুলি খরচ না করেই আমেরিকা ও পশ্চিমা বিশ্ব সেই ঠান্ডা লড়াইয়ে জিতে গেছিল বা সোভিয়েত ইউনিয়নকে বাধ্য করেছিল যুদ্ধক্ষেত্র ত্যাগ করতে। আজ ইউরোপ নিজেদের উদ্যোগেই অস্ত্র প্রতিযোগিতায় নেমেছে। অর্থনীতি যখন নড়বড়ে তখন সামরিক খাতে এই ব্যাপক ব্যয় শেষ পর্যন্ত ইউরোপকে সোভিয়েত ইউনিয়নের পরিণতি গ্রহণে বাধ্য না করে। ইউরোপ অনেক দিন ধরেই বিভিন্ন প্রশ্নে সোভিয়েত ইউনিয়নকে অনুসরণ করছিল। জনগণের মঙ্গলের চেয়েও অন্ধ ভাবে আদর্শ অনুসরণ করা, বিরোধী মতকে দাবিয়ে রাখা ( ভুল শোনেননি, রোমানিয়া, মালদোভা ও অন্য...

জনগণ

Image
ইউরোপের প্রায় প্রতিটি দেশে অর্থনৈতিক মন্দা। তার অন্যতম প্রধান কারণ হল বিগত প্রায় অর্ধ শতাব্দী ধরে ইউরোপের অর্থনীতির লোকোমোটিভ ছিল জার্মানি যার উন্নয়নের মূলে ছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন ও রাশিয়ার সস্তা তেল, গ্যাস। ইউরো প্রবর্তনের পর তা যখন ডলারের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায় আমেরিকা চেষ্টা করেছে জার্মানিকে রাশিয়ার পাইপ লাইন থেকে সরিয়ে নিতে। সেটাই ইউক্রেন যুদ্ধের পেছনে অন্যতম প্রধান কারণ। এরপর থেকে শুরু হয়েছে অর্থনৈতিক মন্দা। এমনকি ফিনল্যান্ড ন্যাটোয় যোগ দিয়ে রাশিয়া সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করে। এখন বাল্টিকের দেশগুলো, ফিনল্যান্ড, জার্মানি সহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বাড়ছে বেকারত্ব, বাড়ছে রুশ বিরোধী মনোভাব। পাকিস্তান, বাংলাদেশ যেমন ভারত বিরোধী রাজনীতি দিয়ে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যর্থতা থেকে জনগণের দৃষ্টি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে, ইউরোপ আজ সে পথেই হাঁটছে। আগে আমরা আমাদের দেশের সরকারের জনবিরোধী নীতির জন্য ইউরোপের কাছে অভিযোগ করতাম, আজ ইউরোপ যখন আমাদের অনুসরণ করছে তখন কপালের দোষ দেয়া ছাড়া আর কিইবা করতে পারে জনগণ। এই যে হামে শত শত শিশু মারা যাচ্ছে, আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে তারপরেও সরকারের নীর...