একজন পঙ্কজ দা

পঙ্কজ দা মারা গেলেন, ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য। সারাদিন ফেসবুকে শ্রদ্ধাঞ্জলি আসছে। ক্লাসে ব্যস্ত থাকায় লেখা হয়নি কিছুই। 

মস্কোয় পড়াশুনার সুযোগে আশির দশকে বাংলাদেশের বাম রাজনৈতিক দলের প্রথম সারির প্রায় সব নেতাকেই খুব কাছে থেকে দেখার সৌভাগ্য হয়েছে। যদিও সে সময় মস্কোয় অধ্যয়নরত সিপিবি ও ন্যাপ ঘরানার শিক্ষার্থীদের মধ্যে সদ্ভাব ছিল না এটা কখনোই দুই দলের নেতাদের সঙ্গে দেখা করতে বা তাদের কাছে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির সর্বশেষ খবর শুনতে বাধার সৃষ্টি করেনি। স্বাধীনতার আগে এমনকি স্বাধীনতার পরেও প্রায় দুই যুগ ধরে এরা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বীর দর্পে পদচারণা করে গেছেন। এটা সম্ভব হয়েছে সমস্ত বাধা বিপত্তির মধ্যেও দেশে রাজনীতি করার পরিবেশ ছিল বলে অথবা রাজনৈতিক দলগুলো এমনকি সামরিক শাসকদের সুস্থ রাজনীতি করার অধিকার দিতে বাধ্য করতে পেরেছিল বলে।

সোভিয়েত ইউনিয়ন ভাঙার পর শুধু বাম রাজনীতিতেই নয় বিশ্বব্যাপী সমস্ত রাজনীতিতেই মৌলবাদীদের উত্থান ঘটে যেটা আমরা দেখতে পাই আমেরিকা ইউরোপ থেকে শুরু করে ভারতীয় উপমহাদেশের বিভিন্ন দেশে। অপরাজনীতির খপ্পরে পড়ে সত্যিকার রাজনীতি ও রাজনীতিবিদগন কোনঠাসা হয়ে যান। পঙ্কজ দার মত সৎ রাজনীতিবিদগন হয়ে যান অতীতের ছায়া। সেদিক থেকে দেখলে শুধু পঙ্কজ দা নন বিভিন্ন ঘরানার রাজনৈতিক নেতা কর্মীরা যারা জীবন বাজি রেখে একাত্তরে স্বাধীনতার লাল সূর্য ছিনিয়ে এনেছিলেন তাঁরা সবাই কমবেশি ব্যর্থ। এই ব্যর্থতার দায় যতটা না তাদের তার চেয়ে বেশি বড় রাজনৈতিক দলগুলোর ক্ষমতার লোভ, ক্ষমতার জন্য বিভিন্ন অপশক্তির সাথে আপোষকামী মনোভাবের।

তারপরেও একদিন, যখন দেশে সুস্থ রাজনীতি ফিরে আসবে পঙ্কজ ভট্টাচার্যের মত নেতারা পথ দেখাবেন সেই প্রজন্মের মানুষদের। রাশিয়ায় শিল্পী, রাজনৈতিক নেতাদের শেষ বিদায় জানায় হাততালি দিয়ে ঠিক যেমন কোন অনুষ্ঠান, নাটক বা বক্তৃতা শেষে করে সম্মিলিত দর্শকরা। দেশ কি করবে জানি না তবে আমার মত অনেকেই আপনাকে মনে রাখবে একজন নিবেদিতপ্রাণ ও জনদরদী রাজনৈতিক নেতা হিসেবে। মানুষ যায় কিন্তু তার কাজ থেকে যায়। আপনার কাজের মধ্য দিয়েই আপনি থাকবেন আমাদের মাঝে।

দুবনার পথে, ২৩ এপ্রিল ২০২৩

Comments