Posts

Showing posts from 2026

মাস্তান

Image
পাড়ার মাস্তান বা ক্লাসের সবচেয়ে বেয়াড়া ছেলের শক্তির উৎস অন্যদের ভয় আর তাদের বড় দুর্বলতা অন্যদের সাহস। তাই এমনকি সবচেয়ে নিরীহ যে মানুষ যে কখনোই মাস্তানের পথ মাড়ায় না সে তাকেও ভয় দেখাতে চায়, পাছে অন্য কেউ সেই নিরীহ মানুষের দেখাদেখি তাকে অবজ্ঞা করে। কিন্তু যদি নিরীহ লোকটি মার খাবে জেনেও ঘুরে দাঁড়াতে পারে সেটা মাস্তানের মাস্তানির শেষের ঘন্টা বাজাতে পারে। অনেকের ধারণা ভেনেজুয়েলার সেনারা যদি গুলি করে দুটো হেলিকপ্টারও ভূপাতিত করত তাহলে আমেরিকা রিট্রিট করত। অন্তত ড্রোনের তাড়া খেয়ে বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ আব্রাহাম লিংকন সরিয়ে নেয়া দেখে সেটাই মনে হয়।ভেনেজুয়েলার বিনা প্রতিরোধে আত্মসমর্পণ ট্রাম্পকে ইরান আক্রমণে উৎসাহিত করেছে। এবং ইরান যে বিভিন্ন দেশে আমেরিকার সামরিক ঘাঁটিতে হামলা করবে সেটা মনে হয় তাদের ধারণার বাইরে ছিল। আসলে পশ্চিমা বিশ্ব সবসময়ই বিদেশে নিজ নিজ মীর জাফর - মোস্তাক - ইউনুস খুঁজে তারপর আক্রমণ করেছে। ইরানে হয় সেরকম কাউকে পায়নি অথবা নেতৃত্ব ধ্বংস করলে মানুষ রাস্তায় নেমে এসে বাকি কাজ করে ফেলবে সেটা ভেবেছে। তবে যাই হোক হিসেবে যে ভুল ছিল সেটা বোঝা যায়। যদি ইরান আর কিছ...

৭ মার্চ

Image
আজ ঐতিহাসিক ৭ মার্চ। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে অন্যতম গৌরবময় দিন। বিচারের জন্য পন্টি পিলটের সামনে হাজির করলে যীশু খ্রিস্ট বলেন ঈশ্বরকে ঈশ্বরের প্রাপ্যটুকু দাও, সিজারকে সিজারের প্রাপ্যটুকু। বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান সমস্যা হল আমরা যার প্রাপ্য তাকে না দিয়ে সব নিজেদের কুক্ষিগত করার চেষ্টা করি। গেটিসবার্গ বক্তব্য আব্রাহাম লিংকনের হলেও সেটা গণতন্ত্রের আধুনিক মেনিফেস্ট হিসেবেই দেখা হয়। পাছে লিংকনের প্রশংসা করা হয় এই ভয়ে কেউ এই বক্তব্য অস্বীকার করে না। এপ্রিল থিসিস লেনিনের লেখা হলেও সেটা বিপ্লবের মেনিফেস্ট, যেমন কমিউনিস্ট মেনিফেস্ট শুধু মার্ক্স ও এঙ্গেলসের নয় সারা বিশ্বের মুক্তিকামী মানুষের। একই ভাবে ৭ মার্চের ভাষণ এটা শেখ মুজিবুর রহমানের একান্ত একার নয়, স্বাধীনতাকামী সমস্ত বাঙালি জাতির। এসব বক্তব্য তাই কারো একার নয়, পরিবেশ, রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সমাজ এ সবের এক সম্মিলিত মিথস্ক্রিয়ার ফল। আজ খুব তাড়াতাড়ি হয়ে যাচ্ছে কিন্তু কাল খুব দেরি হয়ে যাবে। হ্যাঁ, এসব মেনিফেস্ট, এসব বক্তব্য শুধু নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট মানুষের মুখেই উচ্চারিত হয়। এটা এক অবজেক্টিভ রিয়ালিটি, ঐতিহাসিক ঘটনা যা...

ইতিহাস

Image
হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণের পর যে ভয় সৃষ্টি হয়েছিল সেটা অনেক আগেই কর্পূরের মত উবে গেছে। যদিও এরপর থেকে বিশ্বে পারমাণবিক অস্ত্র ও এই অস্ত্রধারী দেশের সংখ্যা ক্রমাগত বেড়ে চলছে তবে এ অস্ত্র আর প্রয়োগ করা হয়নি।  এরপর বিশ্ব প্রবেশ করে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক শক্তির যুগে। তবে চেরনোবিল ক্যাটাস্ট্রফির পরে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র সম্পর্কেও ভীতির সঞ্চার হয়। ফুকুশিমা ক্যাটাস্ট্রফি সেটাকে নতুন শক্তি যোগায়।  তবে মানুষ ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে কখনোই আগ্রহী ছিল না। তাই ইরানের বুসেরে রাশিয়া সহযোগিতায় নির্মিত পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে হামলা করতে ইসরাইল ও আমেরিকা দ্বিধা করছে না। রসএটম এ ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়ে বলেছে সেখানে আক্রমন সমস্ত অঞ্চলের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। সমস্যা হল - আমেরিকা সাত সাগর আর তের নদীর পাড়ে। তাই রেডিয়েশনের হিসাব করার ধৈর্য্য তার কোথায়? দুবনা, ০৩ মার্চ ২০২৬

মৃত্যু

Image
একজন প্রশ্ন করল  আয়াতুল্লাহর মৃত্যুতে কেমন অনুভূতি হচ্ছে? কি বলব? বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মানুষের কর্মকাণ্ডের আমি বিরোধিতা করি। তাদের যথাযথ শাস্তি চাই। কিন্তু ক্রসফায়ারে তাদের মৃত্যু কামনা করি না। এটা তাদের প্রতি সহানুভূতির কারণে নয়, শাসন ব্যবস্থার অধঃপতনের কারণে। আয়াতুল্লাহর মৃত্যু তাই আয়াতুল্লাহর মৃত্যু নয়, এটা সভ্যতার মৃত্যু, বিশ্বাসের মৃত্যু। কারণ আলোচনা চালিয়ে হঠাৎ আক্রমণ এটা বিশ্বাসঘাতকতা। আসলে ইসরাইল ও আমেরিকা যা করছে সেটা আন্তর্জাতিক মব শাসন। মব শাসনের মূল কী? বিচারহীনতা। অর্থাৎ যারা যা খুশি তাই করে তারা জানে তাদের কিছু হবে না। আমেরিকা ইসরাইল সেভাবেই চলছে। লক্ষ্য নাকি যেকোনো উপায়কে ন্যায্যতা দেয়। এটা স্তালিনের নামে চালানো হয়। তবে এই নিয়মে চললে অনিয়মটাই নিয়ম হয়ে যায়। কারণ এমনকি জঙ্গলের পশুরাও কোন না কোন নিয়ম মেনে চলে। আমরা মানুষেরা যদি তা না পারি তাহলে সেটা মানুষ নামের কলঙ্ক। মস্কো, ০২ মার্চ ২০২৬

প্রশ্ন

Image
আয়াতুল্লাহ খোমিনি নিহত। ইরান ইসরাইলের এই দাবির সত্যতা স্বীকার করেছে। যতদূর জানি এটা একটি পদের নাম। নতুন আমিরের মত নতুন আয়াতুল্লাহ নির্বাচিত হবে। অর্ধশতাব্দী দীর্ঘ ইসলামী শাসনে কয়েক প্রজন্ম ইসলামী শাসনের সমর্থক সৃষ্টি হয়েছে ইরানে। বিরোধীরা এখনও দুর্বল। তাই এমনকি নতুন ব্যবস্থা যদি চালু হয়ও তার কলকাঠি ঘুরাবে এইসব মানুষ। ফলে শাসনব্যবস্থা নামে বদলালেও কার্যত আগের মতই থাকবে, অন্তত সমাজের গভীরে। দেশ বদলানোর জন্য যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন দরকার পুঁজিবাদী বিশ্ব সেটা কখনোই করবে না। তারা কাজ করে নিজেদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থে, ভিন দেশের জনস্বার্থে না। আমার কেন যেন মনে হয় সারা বিশ্ব আমেরিকার আভ্যন্তরীণ রাজনীতির কাছে জিম্মি। আগে মনে হত আমেরিকা মানেই সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা। এখন দেখি দুই বছরের ইলেক্টোরাল সাইকেল - প্রেসিডেন্ট ও কংগ্রেস নির্বাচন। এখানে সুবিধা লাভের জন্য শান্তি আর অশান্তি (যুদ্ধ) পালা করে আসে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে। আর এই নির্বাচনের জিম্মি হয় ভেনেজুয়েলা, ইরান, ইরাক, লিবিয়া, সিরিয়া সহ তাবৎ দুনিয়ার মানুষ। নব্বইয়ের দশকে রাশিয়া যখন অলিগার্কদের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে ছিল তখন রাশ...

অমানুষমানুষ

Image
আমেরিকা ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরান আক্রমণ করল। ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী ইসলামী শাসন থেকে ইরানের জনগণকে মুক্ত করতে। এটা ঠিক যে ইরানের বর্তমান শাসন ব্যবস্থা কোন মতেই সমর্থনযোগ্য নয়। কিন্তু তাই বলে বিনা প্ররোচনায় একটি স্বার্বভৌম দেশ আক্রমণ করা কি পৃথিবীকে আরও বেশি অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে না? ইসরাইল ঘোষণা করেছে যে ইরান তার অস্তিত্বের জন্য হুমকি বিধায় সে ইরান আক্রমণ করেছে। আমেরিকা বলেছে তার লক্ষ্য সরকার পরিবর্তন। তার মানে যদি কোন দেশের সরকার তাদের পছন্দ না হয় এবং সে দেশ যদি যথেষ্ট শক্তিশালী না হয় তবে তাকে আক্রমণ করা বেআইনি নয়? এসব বিভিন্ন শক্তিশালী দেশের সামনে প্যান্ডোরার বাক্স খুলে দেয় শক্তি প্রয়োগ করে সমস্যা সমাধানের জন্য। তাই ইরানের ইসলামী শাসন অপছন্দ করলেও এই ধরণের আক্রমণ সমর্থন করা মানে জঙ্গলের শাসনকে এনডোর্স করা তা সে যতই ভালো হোক না কেন। দুটো খারাপ পরিস্থিতির মধ্যে কম খারাপ বেছে নিতে হয়। হয়তোবা ইরানের শাসনব্যবস্থা অধিক খারাপ, কিন্তু যুদ্ধ কি অন্য পথের চেয়ে ভালো? আর দিনের শেষে মারা যাবে তো নিরীহ সাধারণ মানুষ। দুবনা, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

কার যুদ্ধ?

Image
পাকিস্তান আফগানিস্তান আক্রমণ করেছে। যাকে বলে ফুল স্কেল ওয়ার। দুই দেশই যে যেভাবে পারছে অন্যকে আক্রমণ করছে। জানা গেছে আফগানিস্তান পাকিস্তানের পারমাণবিক কেন্দ্রে আক্রমণ চালিয়েছে। এতে শতাধিক আহত ও নিহত। এক কথায় দুই ভ্রাতৃপ্রতিম (?) দেশ কিছুতেই নিজেদের মধ্যে সমঝতা করতে পারছে না যদিও এর আগে কাটার আর তুরস্কের মধ্যস্থতায় সাময়িক ভাবে উত্তেজনা করেছিল। বাংলাদেশে দুই পক্ষেরই সমর্থক আছে। জামায়াত শিবির সহ জনগনের একটি অংশের পাক প্রেম গোপন কিছু নয়। আবার বাংলা হবে আফগান আমরা হব তালিবান স্লোগান দেবার লোকজনও খুব কম নয়। অনেকেই আবার যাকে বলে ট্যু ইন ওয়ান। এবার এরা কি করবে? এটা থেকে অন্তত বোঝা উচিত এসব দেশ আর যাই হোক জনগণ বা ধর্মের নামে সব করলেও জনগণ বা ধর্মের জন্য কিছু করে না, করে নিজেদের ও বিদেশী প্রভুদের স্বার্থে। পাকিস্তানের সেনা শাসনের প্রতি আমেরিকা ও চীনের সমর্থন বরাবরই ছিল। ইদানিং ভারত ও ইসরাইল আফগানিস্তানের প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেছে। কার যুদ্ধ কে করছে সেটাই এখন দেখার বিষয়। দুবনা, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ভয়কে করব জয়

Image
রুশ গোয়েন্দা সংস্থা ঘোষণা করেছে যে ফ্রান্স ও ব্রিটেন ইউক্রেনকে পারমাণবিক অস্ত্র হস্তান্তর করার পরিকল্পনা করছে। সেটা এমনভাবে করা হবে যেন মনে হয় ইউক্রেন নিজ শক্তিতেই এই বোমা তৈরি করেছে। ফ্রান্সের সাবমেরিনের ব্যালেস্টিক মিসাইল এম৫১.১ এর ওয়ারহেড টিএন৭৫ হাতে পেলে কিয়েভ শান্তি চুক্তিতে শক্ত অবস্থান নিতে পারবে। এই অস্ত্র হিরোশিমায় নিক্ষিপ্ত কয়েকটি বোমার সমান শক্তিশালী। রাশিয়া বলেছে এটা হবে পারমানবিক অস্ত্র সম্প্রসারণ না করার আন্তর্জাতিক চুক্তির লঙ্ঘন। মস্কো এক্ষেত্রে ব্রিটেন ও ফ্রান্সের বিরুদ্ধে ট্যাকটিক্যাল পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করতে বাধ্য হবে।  যুদ্ধ মানেই কারোও জয় কারোও পরাজয়। এটা অনেকটা খেলার মত। যদি পরাজয় মেনে নেবার মানসিক শক্তি না থাকে তাহলে যুদ্ধ নামা উচিত নয়। কারণ সেক্ষেত্রে একটি মাত্র পথ খোলা থাকে। ধ্বংস হওয়া।  ইউরোপ সেই পথেই হাঁটছে। বিশ্ব রাজনীতিতে দেউলিয়া হয়ে এখন সে সর্বহারা - শিকল ছাড়া হারোনোর কিছু নেই, জয় করার জন্য আছে পারমাণবিক শীতের ভয়। দুবনা, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

প্রতিভা

Image
মেধা, নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তি এসব কারণে যদিও তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জাগত তবুও যখন ডঃ ইউনুসকে প্রধান উপদেষ্টা করা হয় তখন আমার মনে হয়েছিল ডাঃ জাফর উল্লাহ সবচেয়ে যোগ্য মানুষ হতে পারতেন এই পদের জন্য। কারণ এসব পদের জন্য সবচেয়ে বড় ক্রাইটেরিয়া হল দেশপ্রেম। ডাঃ জাফর উল্লাহর দেশপ্রেম ছিল সন্দেহাতীত। ডঃ ইউনুস বিভিন্ন সময় সন্দেহ করার সুযোগ দিয়েছেন।  দীর্ঘ আঠারো মাসের শাসন শেষে ডঃ ইউনুস বিদায় নিয়েছেন। তাঁর শাসনামল নিয়ে অনেক লেখা হবে। নিজ নিজ উপলব্ধি থেকে বিভিন্ন জন বিভিন্ন ভাবে তাঁর সময়ের আর সেই সাথে তাঁর মূল্যায়ন করবে।  সাধারণ মানুষের আশা আকাঙ্ক্ষা ছিল দীর্ঘ সময় ভয়ের যে সংস্কৃতি বিরাজমান ছিল তিনি দেশকে তা থেকে মুক্ত করবেন। তা হয়নি। তিনি মবের মাধ্যমে ভয়ের সংস্কৃতি আরও গভীর করেছেন।  কথা ছিল স্বজনপ্রীতির অবসান ঘটবে। তিনি নিজেকে তো করমুক্ত করেছেনই নিজের আত্মীয়-স্বজনদের বিভিন্ন পদে নিয়োগ দিয়েছেন।  মানুষ ভেবেছিল আওয়ামী লীগের হাত থেকে উদ্ধার করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা তিনি সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেবেন। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি মুছে ফেলার জন্য সব রকমের চেষ্টা করে...

গ্রহণ বর্জন

Image
আন্তন চেখভের একটা বিখ্যাত উক্তি – “দেয়ালে যদি রিভলবার ঝোলানো থাকে তাহলে আজ হোক কাল হোক একদিন না একদিন সেটা থেকে গুলী বেরুবেই।” ইউরোপে আজ অস্ত্রের ঝনঝনানি। জার্মানি থেকে শুরু করে সবাই তাদের মিলিটারি ইন্ডাস্ট্রিকে চাঙ্গা করতে চাইছে। এ জন্য দরকার শত্রু। বাস্তব হোক আর কাল্পনিক হোক – শত্রু দরকার। রাশিয়া উত্তম ভাবে সে ভূমিকা পালন করতে পারে। এটা অনেকটা পাশের বাড়ির নাদুসনুদুস ষাঁড়ের মত। সে এমনকি যারপরনাই শান্ত ও বন্ধুবৎসল হলেও মানুষ তাকে ভয় পাবেই। যুক্তি একটাই। ষাঁড়। বলা তো যায় না কী আছে ওর মনে। হঠাৎ যদি গুঁতা দিয়েই বসে। ফলে আশেপাশে কোন বড় দেশ থাকলেই ছোট ছোট দেশগুলো ভয়ে থাকে আর ভয় থেকে যুদ্ধংদেহী মনোভাব আর সেই সাথে অস্ত্র ভাণ্ডার বোঝাই করা। এতে অন্যান্য খাত শুকিয়ে যায়। সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ে। আর সবচেয়ে বড় কথা অস্ত্র ব্যাপারটা যাকে বলে গরীবের ঘোড়া রোগ। কারণ অস্ত্র ফেলে রাখলে চলে না, এর যত্ন নিতে হয়। অস্ত্রের নির্দিষ্ট আয়ু আছে। সময় মত ব্যবহার না করলে বিদ্রোহ করতে পারে, মানে সেখানে বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। অন্য দিকে পুরানো অস্ত্র শান্তিপূর্ণ উপায়ে ধ্বংস খুবই ব্যয় সাপেক্ষ। এটা অনেকটা কারখা...

খেলা

Image
ছোটবেলায় আমরা প্রায়ই শম্ভু নামে এক পাগলাটে ছেলেকে ক্ষ্যাপাতাম এই বলে যে ও এটা করতে পারবে না। আর নিজেকে প্রমাণ করতে ও সেটা করার চেষ্টা করে সবার হাসির খোড়াক হত। এমনকি ও জিতে গেলেও কেউ তার গুরুত্ব দিত না। ওকে নিয়ে মজা করাই ছিল আসল উদ্দেশ্য।  আজকাল বিভিন্ন অনলাইন গ্রূপে এ ধরণের ঘটনা ঘটে। মূলত টিন এজারদের বিভিন্ন রকম প্রায় অসম্ভব কাজ করতে বলে। যেমন ট্রেনের ছাদে চড়ে ভ্রমণ, প্রচুর পরিমাণে খাবার খাওয়া আর এসবের ভিডিও করে প্রচার করা। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এর ফলাফল হয় ফাটাল।  ইউরোপ আবার জেলেনস্কিকে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে উদ্বুদ্ধ করছে। না, জিততে পারবে না। তাদের জন্য জয় মানে রাশিয়ার অস্ত্র ভান্ডার কমানো। তাদের যুক্তি ইউক্রেনের পরে রাশিয়া তাদের উপর আক্রমণ করবে। তারা কি এটা বিশ্বাস করে? না। বলে কেন? জনগণকে ধোঁকা দিতে। কারণ তারা যদি বিশ্বাস করত রাশিয়া তাদের আক্রমণ করবে তাহলে এটাও বিশ্বাস করত যে রাশিয়া সেক্ষেত্রে পারমাণবিক বোমা ব্যবহার করতে দ্বিধা করবে না। আর তাহলে নিজেরাই উদ্যোগী হতে যত দ্রুত সম্ভব যুদ্ধ শেষ করতে। ওরা রাশিয়ার ভয় দেখালেও রাশিয়াকে ভয় পায় না, রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে নামত...

দেশপ্রেম

Image
গণতন্ত্রে ক্ষমতার রদবদল অনেকটা রিলে রেসের মত। দেশ যদি টিম হয় আর এই টিমের সদস্য হিসেবে যদি দশকে বিজয়ী করতে চাই তাহলে দেশটাকে যতদূর সম্ভব সুন্দর ভাবে পরবর্তী রানার বা শাসকের হাতে তুলে দিতে হয়। সেটা না করলে দলের বা দেশের প্রতি আস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। ২০১৬ সনে ট্রাম্প নির্বাচনে বিজয়ী হলে বিদায়ের আগে ওবামা রাশিয়ার সাথে সম্পর্ক এমন পর্যায়ে নিয়ে যান যে সেই আঘাত আজও কাটিয়ে উঠতে পারে নাই মার্কিন - রুশ সম্পর্ক। এটা ওবামার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন করার সুযোগ দেয়। কারণ এই দুই দেশের সম্পর্ক বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিরাট ফ্যাক্টর। নির্বাচনের কয়েক দিন আগে ডঃ ইউনুস আমেরিকার সাথে এক চুক্তি স্বাক্ষর করেন যা রাজনৈতিক, বানিজ্যিক ও সামরিক ভাবে পরবর্তী শাসক তথা বাংলাদেশকে নানামুখী বিপদের সম্মুখীন করতে পারে। আন্তর্জাতিক খেলোয়াড় ডঃ ইউনুসের দেশপ্রেম কখনোই প্রশ্নাতীত ছিল না, এই চুক্তি নতুন করে আরও অনেক প্রশ্নের জন্ম দেবে তার দেশপ্রেম নিয়ে। দুবনা, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

প্রশ্ন ও আশা

Image
নির্বাচনে সিপিবির ফলাফল দেখে একটু হতাশ হলাম। না, তারা জিতবে সে আশা করিনি, তবে কিশোর রায় ও মিহির ঘোষ নিজ নিজ আসনে আরও ভালো করবে সেটা আশা করেছিলাম। সবচেয়ে হতাশ করেছে সিপিবির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। এরা পার্টির মুখ। এদের ভোটের পরিমাণ যখন দিন শেষে ভিক্ষুকের থলিতে যে খয়রাত পড়ে তারচেয়ে কম হয় তখন নিজেকে লুকানোর জায়গা খুঁজে পাই না। সিপিবি একটি ঐতিহ্যবাহী দল। সাজ্জাদ জহির চন্দন ও আবদুল্লা আল ক্কাফি রতন দু'জনেই আশি ও নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় ছাত্রনেতা। তাই তাদের এই ফলাফল এক অর্থে বাম রাজনীতির প্রতি, সিপিবির প্রতি, সিপিবির নেতৃত্বের প্রতি জনগণের চপেটাঘাত। গত কংগ্রেসে পার্টির দায়িত্ব গ্রহণের জন্য সিপিবিতে অনেক নাটক হয়েছে। এবার কি আমরা জবাবদিহিতা দেখতে পাব? আমরা সবসময় অন্যদের কাছে জবাবদিহিতা আশা করি। কবে নিজেরা ব্যর্থতার জবাব দিতে শিখব? নির্বাচনে দেশের মানুষ মৌলবাদী ও একাত্তরের বিরোধী শক্তিকে না করেছে। বিগত দেড় বছরে বিএনপির এডভোকেট ফজলুর রহমান যেভাবে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে লড়াই করেছেন পার্টির কোন নেতা তার ধারেকাছেও ছিল না। এমনকি এই প্রশ্নে মির্জা ফখরুলের ধারেকাছেও ছিল না পার্টির কেউ। ...

নির্বাচন

Image
বাংলাদেশের নির্বাচন শেষ হল। হাজারটা সংশয়ের পরেও নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে সেটা সুসংবাদ। আরও বড় সুখবর হল এবারে নির্বাচনে লোকক্ষয় অনেক কম। এর অন্যতম প্রধান কারণ উগ্র নির্বাচন বিরোধী শক্তির অনুপস্থিতি। তার মানে সমস্ত দল যদি সত্যিকার অর্থেই শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করতে চায় সেটা সম্ভব।  বিএনপি নির্বাচনে জয়ী হয়েছে বলেই মনে হয়। তারেক জিয়ার মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, অবিশ্বাসী ও সংশয়বাদীদের বিষয়ে বক্তব্য আশাব্যঞ্জক। আশা করি তিনি মনে রাখবেন বিএনপির এই বিজয়ের পেছনে শুধু তার দলের সমর্থক নয়, যারা ধর্মভিত্তিক ও মৌলবাদী শক্তির বিরুদ্ধে তাদেরও অনেক অবদান আছে। এটা মূলতঃ ছিল একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের বিজয় এবং মানুষ নির্বাচনে অন্য কোন বিকল্প না থাকায় একাত্তরের চেতনা রক্ষা ও বিকাশের দায়িত্ব বিএনপির উপর ন্যস্ত করেছে। তারা জামায়াত শিবির প্রত্যাখ্যান করেছে। তারেক জিয়া যদি মানুষের এই রায়ের কথা মাথায় রাখেন তাহলে সেটা ভবিষ্যতে বিএনপিকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিশালী এক রাজনৈতিক দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে। আর যদি তাই হয় তবে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের মানুষ আর বাংলাদেশ না পাকিস্তান -...

না

Image
দেড় বছর আগে কি দেশে সুশাসন ছিল? মোটেই না। আর তাই সারা দেশের সর্ব স্তরের মানুষ রাস্তায় নামে। লক্ষ্য একটাই - আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, হেলমেট বাহিনীর হাত থেকে মুক্তি পাওয়া। এর পেছনে কোন মেটিকুলাস প্ল্যানের কথা মানুষ জানত না। তারা নিজেদের কষ্টের কথা জানত, শাসকগোষ্ঠীর দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির কথা জানত। তারা এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ চেয়েছিল। গত দেড় বছরে মানুষের আশা পূর্ণ হয় নি। না এসেছে আইনের শাসন, না কমেছে দুর্নীতি আর স্বজনপ্রীতি। মানুষের পিঠ আরও বেশি করে দেওয়ালের সাথে মিশে গেছে। সে আরও বেশি করে ভীতি গ্রস্থ। তাই এই সরকারের আয়োজিত গণভোটে হ্যাঁ ভোট দেয়া হবে এই অন্যায়, অত্যাচার, অবিচার, এই দেশদ্রোহী শক্তির সমস্ত অপকর্মকে আইনি ভিত্তি দেয়া। যদি গত দেড় বছরের শাসনের সাথে একমত পোষণ না করেন আপনার নাগরিক দায়িত্ব হবে না ভোট দেয়া। অপশাসনকে না করুন। দুবনা, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

দেশি হাসপাতাল

Image
সত্য না মিথ্যা সেটা জানি না, তবে বিভিন্ন সময়ে শুনেছি দেশের বিভিন্ন কমার্শিয়াল হাসপাতালে রুগি মারা যাবার পরেও তাকে আইসিইউতে রাখা হয় বেশি চার্জ করার জন্য। ইউরোপ এখন ঠিক দেশি হাসপাতালের মত কাজ করছে এবং কোন আশা নেই জেনেও ইউক্রেনকে যুদ্ধ তথা ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। এতে শুধু ইউক্রেন মানুষ হারাচ্ছে না, হারাচ্ছে ভূমি, অবকাঠামো আর প্রতিদিন বাড়ছে ঋণ। যদি কেউ ভাবে ইউরোপ বা আমেরিকা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে ইউক্রেনকে শত শত বিলিয়ন ডলার দিচ্ছে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে, তারা বোকার স্বর্গে বাস করছে। যুদ্ধ যত দেরিতে শেষ হবে, ইউক্রেন যত দুর্বল হবে সেই ঋণ শোধ করা তত বেশি কঠিন হবে। আর ইউক্রেনকে তত শক্ত শর্তের নাগ পাশে বাঁধা যাবে। পুঁজিবাদ এমনি এমনি কিছু দেয় না। অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেয়া ভালো, বিশেষ করে অন্যদের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে। সেটা অনেক কম বেদনাদায়ক। আমাদের দেশের এক্সিকিউটিভ অফিসাররা সেটা বোঝে কি? নাকি তারা নিজ নিজ মালিকদের তাঁবেদার মাত্র? দুবনা, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

সিংহ, হায়েনা ও মহিষের গল্প

Image
ট্রাম্প জেলেনস্কিকে রাশিয়ার সাথে শান্তি চুক্তি করতে চাপ দিচ্ছেন, অন্যদিকে ইউরোপ, বিশেষ করে পোল্যান্ড, জার্মানি, ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স সর্বোতভাবে চেষ্টা করছে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর বিষয়ক আলোচনা বানচাল করতে। আবু ধাবিতে শান্তি আলোচনা চলার সময় রুশ জেনারেলের উপর সন্ত্রাসবাদী আক্রমণ তার জ্বলন্ত স্বাক্ষ্য। আর এসব হচ্ছে ন্যাটোর মহাসচিব রুট্টে, পোলিশ মন্ত্রী সিকোরস্কি এদের কিয়েভ সফরের পরপর। এটা অনেকটা হায়েনাদের মহিষকে সিংহের মুখে ঠেলে দেবার মত। সিংহ লড়াই করে মহিষকে মারবে, কিছুটা খেয়ে চলে যাবে, পরে হায়েনারা দল বেঁধে মহিষের মাংস দিয়ে পিকনিক করবে। আসলে গণতন্ত্র ফনতন্ত্র কিচ্ছু না, রাশিয়া যুদ্ধ করে ইউক্রেনকে দুর্বল করে নিজের জায়গা ফিরে পাওয়ার পরে পোল্যান্ড, হাঙ্গেরি, রোমানিয়া ইউক্রেনের অবশিষ্টাংশ নিজেদের করে নেবে। এভাবেই কৃত্রিম জাতিসত্তা সোভিয়েত জাতির মত ইউক্রেন জাতিসত্তা একদিন ইতিহাস হয়ে যাবে। যুগোস্লাভিয়া, সোভিয়েত ইউনিয়ন, লিবিয়া কত দেশই তো পৃথিবীর মানচিত্র থেকে হারিয়ে গেল। ইউক্রেন হারিয়ে যাবে। কয়েক বছর পরে কেউ ইউক্রেনের কথা মনেও রাখবে না। দুবনা, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ...

ছাগলের তিন নম্বর বাচ্চা

Image
আজকাল এপস্টেইন ফাইল নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে। এর কন্টেন্টের সত্যতা নিশ্চিত করবে আদালত। তবে একটি কথা নিঃসন্দেহে বলা যায় যে যারা পৃথিবীর ভাগ্য বিধাতা তাদের মধ্যে নৈতিকতার বালাই বলে কিছু আর অবশিষ্ট নেই। সামন্ত সমাজে রাজা বাদশাহ যা বলত সেটাই হত আইন। এখনও আমরা সেই অবস্থা থেকে খুব একটা দূরে যেতে পারিনি যদিও প্রক্রিয়া এখন অনেক বেশি গণতান্ত্রিক। আর এর ফলে আমরা আম জনতাও এ সমস্ত কেলেঙ্কারির দায় ভাগী। ডঃ ইউনুস বলেন, আলী রিয়াজ বলেন এরা সবাই এই খোঁয়াড় থেকে বেরিয়ে আসা মাল। মোটা দাগে অশ্লীল স্লোগান দেয়া জেন-জি আর এসব রত্নদের মধ্যে তেমন পার্থক্য নেই। জেন-জি, ওয়াজ করা হুজুর, বিএলএম এরা রুক্ষ কাঁচা মাল, ডঃ-রা আর এপস্টেইন ফাইলের নট নটীরা সংস্কৃতির মোড়কে উপস্থাপিত। একটা লিমিট অতিক্রম করার পর অর্থ অর্থহীন হয়ে পড়ে। তখন মনে হয় সারা বিশ্ব তার পায়ের তলায়। এই ঘটনা আমাদের কিছুই শেখাবে না, আমরা আগের মতই এদের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকব আর তাদের হাতে নিজেদের ভাগ্য সঁপে দেব।‌ আর এসব অপদার্থদের গলা ধাক্কা দিয়ে বের না করে ছাগলের তিন নম্বর বাচ্চার মত এসব মানুষের কেচ্ছা কাহিনী শুনে আনন্দে হাততালি দেব। দুবনা, ০...

যুদ্ধ

Image
আজ ২ ফেব্রুয়ারি। বছরের এই দিনটায় ভোলগাগ্রাদ তার স্তালিনগ্রাদ বা স্ট্যালিনগ্রাড নাম ফিরে পায়। ১৯৪৩ সালের এই দিনে রেড আর্মি নাৎসি বাহিনীকে পর্যদুস্ত করে। সমাপ্তি ঘটে দীর্ঘ ২০০ দিনের যুদ্ধ। নাৎসি জার্মানির শেষের শুরু হয় এখান থেকেই।  আজও এখানে নতুন একটি সমাধি খোঁড়া হল। বিজয়ের আশি বছর পরেও রাশিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন জায়গায় মৃত সেনাদের ধ্বংসাবশেষ খুঁজে বেড়ায় স্বেচ্ছাসেবক দল। যখনই কারো পরিচয় নিশ্চিত হয় যথাযথ মর্যাদায় তাকে সমাহিত করা হয়।  আমাদের যুদ্ধ শেষ হয়েছে (?) ৫৫ বছর আগে। এখন তো দূরের কথা এমনকি সত্তরের দশকেও মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা তৈরি করা হয়নি। বছর দশেক আগে যে তালিকা করা হয়েছিল তাতে ভুলের পরিমাণ ছিল কল্পনাতীত। আসলে রাষ্ট্র কখনোই তার মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান দেয়নি, তাদের নিয়ে রাজনীতি করেছে।  আজ দাগিস্তানের এক যোদ্ধাকে সমাহিত করা হল নিজ গ্রামে। এর আগে আহত হয়ে যুদ্ধে না যাবার সমস্ত কারণ থাকা সত্ত্বেও সে ফিরে যায় সহযোদ্ধাদের কাছে। সেখানেই মৃত্যুবরণ করে। কেন যায়? মনে হয় এজন্য যে জানে দেশ, জাতি, রাষ্ট্র তাকে ভুলবে না। এখানে কাউকে ভুলে না, কিছুই ভুলে না। আর তাই...

ইতিহাস

Image
সেদিন রুশ টিভিতে অস্ট্রিয়ার স্কুল সম্পর্কে বেশ দীর্ঘ এক রিপোর্ট দেখাল। স্কুলের শতকরা প্রায় নব্বই ভাগ ছেলেমেয়ে অভিবাসী। এমনকি অনেকেই এদেশেই জন্ম নিয়েছে। কিন্তু এদের বেশিরভাগই জার্মান বা ফ্রেঞ্চ ভাষায় কথা বলতে পারে না। কথা বলে মূলতঃ আরবি ভাষায়। আমার মনে পড়ল আশির দশকে মস্কো থেকে ঢাকা ফেরার দৃশ্য। লন্ডন থেকে বিমান ভরে বাংলাদেশের লোকজন দেশে ফিরত। সোভিয়েত ইউনিয়নের জাতীয় বিমান সংস্থা এরোফ্লত ছিল সস্তা ও জনপ্রিয়। সারা পথ তরুণ তরুণীরা ব্যাকরণের তোয়াক্কা না করে ইংরেজি বলে যেত। কিন্তু ঢাকায় ল্যান্ড করার আগ মুহূর্তে অনুরোধ করত ইমিগ্রেশন ফর্ম পূরণ করতে। ওরা লিখতে পড়তে জানত না। আজ ইংল্যান্ডে যে সাম্প্রদায়িক শক্তির উত্থান সেটা এই শিক্ষার অভাব থেকেই। একদিন অস্ট্রিয়ায় অশিক্ষিত মানুষের সংখ্যা বাড়বে। আর যাদের শিক্ষা যত দুর্বল মৌলবাদের হাতিয়ার হিসেবে তারা তত সবল। দুবনা, ৩১ জানুয়ারি ২০২৬

সমস্যা

Image
বাংলাদেশের রাজনীতির অন্যতম প্রধান সমস্যা হল সত্যিকার অর্থে দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দলের অনুপস্থিতি। বলব না যে দেশপ্রেমিক দল নেই বা রাজনৈতিক দলগুলো দেশকে ভালোবাসে না। কিন্তু সমস্যা হল সবাই দেশকে ভালোবাসে নিজের শর্তে, পুরুষতান্ত্রিক সমাজে অনেকটা বিয়ে করার মত। সব অধিকার পুরুষের। কোন কারণে পুরুষ নারীকে ছাড়তে বাধ্য হলে সে তাকে বের করে দেয় এক কাপড়ে। একই অবস্থা দেশের ক্ষেত্রেও। কিছু কিছু লোক আছে যারা জমি বর্গা নিয়ে চাষ করে আর সেটা এমনভাবে করে যেন যদি জমি কোন কারণে হাতছাড়া হয়ে যায় তাতে যেন এমনকি ঘাস পর্যন্ত না গজায়। আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো ঠিক একই ভাবে কাজ করে, তা সে বড় দল হোক আর ছোট দল হোক, বুড়ো দল হোক আর শিশু দল হোক। আমরা কথায় কথায় গণতন্ত্র, সুশাসন, সমান অধিকার এসব বুলি আওড়াব আর ক্ষমতা পেলেই আগের চেয়েও নৃশংস ভাবে অন্যদের অধিকার খর্ব করব – এটাই সবার চলার একমাত্র রোড ম্যাপ। এটা অনেকটা ঐশী বাণী। কেউ এ থেকে এক চুল নড়তে রাজি নয়। ফলাফল – অসন্তোষ, বিদ্রোহ, অস্থিতিশীলতা। আসলে মানুষের যখন নিজের অধিকার আদায়ের, নিজের কথা বলার আইনি সুযোগ থাকে না, তখনই সে বেআইনি উপায় বেছে নেয়। মুগুরে ভরসা করে কিছু দিন চলা যায়...

ক্রিকেটদ্রোহী

Image
নগর যখন পুড়ে ছারখার তখন দেবালয় দিয়ে কী হবে? হ্যাঁ, ক্রিকেটের কথা বলছি। এই যে আমরা মানসম্মানের প্রশ্ন তুলে বিশ্ব কাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ প্রায় অসম্ভব করে তুললাম – তারা কি কখনও যারা খেলে – সেই ক্রিকেটারদের কথা ভেবেছি। আমার আপনার জন্য এটা মানসম্মান, ওদের জন্য এটা রুটি রুজি। ফিজকে যখন কেকেআর বাদ দিল, তখন নিশ্চয়ই চুক্তি অনুযায়ী সেখানে কম্পেনসেসনের ব্যবস্থা ছিল। ফিজ চাইলে কেকেআরএর বিরুদ্ধে লড়তে পারত আর বিসিবি তাকে নৈতিক ও আইনি সাহায্য দিতে পারত। কিন্তু তারা কি করল? ভারতে বিশ্ব কাপ খেলব না বলে হুঙ্কার ছাড়ল। কয়েক দিন আগে বিগ বাশ লীগে স্মিথ বাবরকে একটি সিঙ্গেল দিতে অস্বীকার করে। এটা কম লজ্জার বিষয় ছিল না বাবরের জন্য। অনেক জল ঘোলা হয়েছে। কিন্তু পিসিবি কি কোন কথা বলেছে? বিসিবি বা বাংলাদেশ সরকার যদি ক্রিকেটারদের স্বার্থ নিয়ে ভাবত তাহলে আজ বিশ্ব কাপে অংশগ্রহণ প্রশ্নের মুখোমুখি করত না। ক্রিকেট এখন শুধু আবেগ নয়, এটা হাজার হাজার তরুণ তরুণীর জীবনে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার একমাত্র উপায়। জাতীয় দলে অনেক খেলোয়াড় আছে যাদের আর কোন ভাবেই লাইম লাইটে আসার সুযোগ ছিল না। আমাদের উপমহাদেশে হাজার হাজার, যদি লাখ লাখ না হ...

ভোট

Image
সোভিয়েত ইউনিয়নে আর্মেনিয়ান রেডিও বলে এক হিউমারিস্টিক প্রোগ্রাম ছিল। সেখানে শ্রোতারা বিভিন্ন প্রশ্ন করত আর রেডিও থেকে তার উত্তর দেয়া হত। এক শ্রোতার প্রশ্ন ছিল  - যদি কেউ ধর্ষণ করতে চায় তাহলে কি করা উচিৎ। উত্তর  - যদি এড়ানো সম্ভব না হয় তবে উপভোগ করা। আপাত দৃষ্টিতে এটাকে একটি স্থূল চুটকি মনে হতে পারে। তবে সোভিয়েত ইউনিয়নে বাকস্বাধীনতা ছিল সীমিত তাই এরকম সাংকেতিক ভাষায় মানুষ বিভিন্ন কথা বলত। এই চুটকির একটা অর্থ হল - যদি সরকারি আদেশ অমান্য করা না যায় তবে সেটাকে যতদূর সম্ভব নিজের কাজে লাগানো উচিত।‌ দেশের নির্বাচনকে ঘিরে সৃষ্ট পরিস্থিতি নিয়ে বলতে হয় যদি গণভোট বাতিল করতে না পারা যায় তাহলে তাতে অংশগ্রহণ করে নিজের পছন্দের ভোট দেয়াটাই শ্রেয়। দুবনা, ২২ জানুয়ারি ২০২৬

শাঁখের করাত

Image
সব সমস্যারই সমাধান আছে। কোন কোন সমস্যার একাধিক সমাধান থাকে। সেক্ষেত্রে চেষ্টা করতে হয় সেই সমাধানটি বেছে নিতে যেটা তুলনামূলক কম ক্ষতিকর। কিন্তু অবস্থা দেখে মনে হয় বর্তমান সরকার সবসময় দেশের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর সমাধান বেছে নেয়। এটা এখন প্যাথোলজিক্যাল ব্যাপারে পরিণত হয়েছে।  যদি রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা বলি ৫ আগস্ট সরকার পতনের পরে দেশকে গণতান্ত্রিক পথে ফিরিয়ে আনার একটি সুবর্ণ সুযোগ ছিল। দেশের মানুষ ফ্রি ও ফেয়ার ইলেকশনের জন্য উদগ্রীব ছিল। কিন্তু প্রতিহিংসা যখন রোড ম্যাপ হয়, তখন সঠিক পথ প্রায়ি নাগালের বাইরে চলে যায়। ফলাফল - আজ সর্বত্র অরাজকতা, মবের মুল্লুক আজ বাংলাদেশ। ক্রিকেট নিয়ে আজ যে অবস্থা তার জন্য সরকারের এই নীতিই দায়ী। অন্য দেশের একটি আভ্যন্তরীণ টুর্নামেন্টকে ঘিরে যে নাটক করা হল সেটা কার স্বার্থে? দেশ কি কখনও দেশের ক্রিকেটারদের পেছনে দাঁড়িয়েছে? এমন কি দুদিন আগেও ক্রিকেটারদের অপমান করা হয়েছে। সেটাই যদি হয় তাহলে ফিজকে ঘিরে কেন এই রাজনীতি? মনে হয় দেশের ক্রিকেটকে ধ্বংস করার জন্যই শুরু থেকেই সব দরজা বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। কারণ আমরা যে অবস্থার মুখোমুখি এখন দাঁড়িয়েছি তাতে যেকোনো সিদ্...

প্রশ্ন

Image
ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কালা কায়াসের মতে গ্রীন ল্যান্ডকে ঘিরে ইউরোপ আর আমেরিকার বিতর্কে সবচেয়ে খুশি ও লাভবান হচ্ছে রাশিয়া আর চীন। এটা শুনে আমার দেশের কথা মনে হল। দেশের যেকোন সমস্যায় সরকার ও বাম দলগুলো ভারত আর আওয়ামী লীগের দিকে আঙুল তুলে। কিন্তু রাশিয়া বা চীনের কথাই হোক আর ভারত বা আওয়ামী লীগের কথাই হোক - এদের যদি লাভ হয়েও থাকে তা হচ্ছে ইউরোপ-আমেরিকা বা আমাদের সরকার আর বামদের ব্যর্থতায়। নিজেরা ভুল না করলেই তো হয়। এই প্রসঙ্গে আরও একটা মিল দেখা যায় ইউরোপ আর বাংলাদেশের মধ্যে। রাশিয়া কখনও ইউরোপ আক্রমণ করার কথা বলে না, অথচ ইউরোপ কাল্পনিক রুশ আক্রমণ ঠেকাতে যুদ্ধ প্রস্তুতি নিচ্ছে আর সেজন্য মহিলাদের প্রশিক্ষণে ডাকছে যাদের অনেকেই টিজিং এর শিকার হচ্ছে। একই ভাবে ভারতীয় আগ্রাসনের কথা বলে বাংলাদেশে অনেকেই যুদ্ধের প্রস্তুতি নেবার কথা বলছে। টিভিতে যুদ্ধ দেখা আর বাস্তবে যুদ্ধ করা দুটো ভিন্ন ব্যাপার। আর হার জিত যাই হোক যুদ্ধ সমাজে যে বিরাট ক্ষত রেখে যায় তা থেকে সহজে মুক্তি মেলে না। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ক্ষত পাকিস্তান তো বটেই, বাংলাদেশ আজও কাটিয়ে উঠতে পারেনি বলেই মনে হয়। ক...

দা, নিয়েৎ - দানিয়েৎ

Image
বাংলাদেশের রেফারেন্ডাম নিয়ে অনেকেই বলছে সরকারকে নিরপেক্ষ থাকতে হবে। আমার ধারণা এটা অন্যায় আবদার। কারণ গণভোট হয় বিরোধীদের না হয় সরকারের উদ্যোগে আয়োজিত হয়। তাই সরকারকে এর পক্ষে বা বিপক্ষে বলতেই হবে। সরকার নিরপেক্ষ বিচারক নয়, একটা পক্ষ। মনে পড়ে ২৯৯৩ সালে সংবিধান ও পার্লামেন্টের ভূমিকার প্রশ্নে রাশিয়ার গণভোটের কথা। প্রেসিডেন্ট ইয়েলৎসিন একদিকে অন্যদিকে রুশ পার্লামেন্ট গস দুমা। চারটি প্রশ্নে জনগণ ভোট দেয়। ইয়েলৎসিনের শ্লোগান ছিল দা, দা, নিয়ে, দা মানে হ্যাঁ, হ্যাঁ, না, হ্যাঁ। রুৎস্কোই ও হাজবুল্লাতভের নেতৃত্বে বিরোধীদের শ্লোগান ছিল তার উল্টোটা নিয়েৎ, নিয়েৎ, দা, নিয়ে বা না, না, হ্যাঁ, না। তাই সরকার যদি দেশে ঢালাও ভাবে হ্যাঁ এর পক্ষে বলে বিরোধীদের একযোগে না এর পক্ষে নির্বাচনী প্রচার করতে হবে। যতদূর মনে পড়ে, সব দল বলেছিল সংবিধানের সংশোধনের বিষয় নবনির্বাচিত পার্লামেন্টের উপর ছেড়ে দিতে। সরকারি চাপে ঐকমত্য কমিশনে অংশগ্রহণ করলেও মতৈক্যে পৌঁছুতে পারেনি। এখন তারা না ভোট দিয়ে উড়ে এসে জুড়ে বসা সরকারের সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নাকচ করে দিতে পারে আর নবনির্বাচিত সংসদ পরবর্তীতে সেই উদ্যো...

বিরোধিতা

Image
রুশরা বলে শয়তান তত ভয়ঙ্কর নয় যতটা বড় করে তাকে দেখানো হয়। আমেরিকা তথা পশ্চিমা বিশ্বে সবসময়ই রাশিয়ার এমন এক চিত্র আঁকা হয় যেন নাওয়া খাওয়া বাদ দিয়ে সে অনবরত এসব দেশের মানুষের ক্ষতি করার জন্য অবিরাম চেষ্টা করে যাচ্ছে। ২০১৬ সনে ট্রাম্পের বিজয়ের পেছনে রুশ ভালুকের দীর্ঘ লোমশ হাত আবিষ্কারে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার আর প্রচুর সময় ব্যয় করেও কিছুই পাওয়া যায়নি, না হাত, না রাশিয়া - কিছুই।‌ তবে মিথ্যা কে সত্য বানানোর জন্য যেসব কৌশল অবলম্বন করা হয়েছে তা সমাজে দীর্ঘদিনের জন্য দাগ রেখে গেছে।‌ নির্বাচন, বিচার ব্যবস্থা এসব ইনস্টিটিউটের মর্যাদার কম হানি হয়নি।‌ সার্বিক বিচারে বলা যায় রাশিয়া নিজে আমেরিকা বা পশ্চিমা বিশ্বের যত না ক্ষতি করে তারচেয়ে বেশি ক্ষতি করে রুশ ভীতি। এই সূত্র ধরেই বলা যায় ভারত নিজে যতটা বাংলাদেশের ক্ষতি করে তারচেয়ে বেশি ক্ষতি করে ভারত বিরোধিতা। এই ভারত বিরোধিতাকে পুঁজি করেই একাত্তরের বিরোধিতা করা যায়, ভারতীয় আগ্রাসনের ভয় দেখিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট ধ্বংস করা যায়, এক কথায় ভারতীয় ভূতের ভয় দেখিয়ে জনগণের হাত জনগণের মাথায় বুলিয়ে সেখানে কাঁঠাল ভেঙে খাওয়া যায়।‌ সবচে...

সমস্যা

Image
টিন এজারদের অন্যতম প্রধান সমস্যা তাদের আবেগ। অভিজ্ঞতার অভাব তাদের ভারসাম্য বজায় রেখে কোন সিদ্ধান্ত নেবার পথে বাধা হিসেবে কাজ করে। আর আবেগের বশে নেয়া সিদ্ধান্ত অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিপর্যয় ডেকে আনে। আইপিএল এ মুস্তাফিজুর রহমানের অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে টি টুয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত সেই অপরিপক্কতাকেই সামনে নিয়ে আসে।  সব কিছুর পরেও আইপিএল একটি ঘরোয়া টুর্নামেন্ট। অনেক দিন যাবৎ সেখানে পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণ করতে দেয়া হয় না। এতে কি আইসিসি কোন ভূমিকা রাখতে পেরেছে? তাহলে মুস্তাফিজের ব্যাপারে তারা কি করবে? এর আগে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অজুহাতে বিসিবি আইপিএল টুর্ণামেন্ট চলাকালীন মুস্তাফিজকে ডেকে পাঠিয়েছে। কেউ তো আইসিসির কাছে অভিযোগ করেনি।‌ এই যে অতিরিক্ত আবেগে ভেসে আমরা নিজেদের এমন ভাবে কোনঠাসা করে ফেললাম যে যেকোনো সিদ্ধান্তই আমাদের শাঁখের করাতের মত কাটবে। সবকিছুর পরে ভারতে গিয়ে খেলা আমাদের এগোতে লাগবে। না খেললে শুধু আর্থিক ক্ষতি নয় বাংলাদেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ প্রশ্নের সম্মুখীন হবে। আমরা কোন দিকে যাব? এটা ভারতের জন্য হবে না, হবে সমস্ত ঘটনাটি হ্যান্ডেল করতে আ...

মৃত্যু

Image
জন্ম মৃত্যু পাশাপাশি চলে, এমনকি সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ দেশেও মানুষ মরে। প্রশ্ন তাই মৃত্যুতে নয়, কীভাবে এই মৃত্যু আসে তাতে। বাংলাদেশে অস্বাভাবিক মৃত্যু কখনোই অভাবনীয় কিছু ছিল না তবে গত দেড় বছরে তার হার অস্বাভাবিক রকম বৃদ্ধি পেয়েছে, অর্থনীতির ভাষায় বললে অস্বাভাবিক মৃত্যুর বাজারে ঘটেছে অস্বাভাবিক মৃত্যস্ফীতি। এই পরিস্থিতিতেও যেটা খুব বেশি করে চোখে পড়ে তা হল সংখ্যালঘুদের অস্বাভাবিক মৃত্যু। বিগত কয়েক দিনে সেটা শুধু পরিমাণে নয়, হিংস্রতায়ও এক ভিন্ন মাত্রায় উন্নীত হয়েছে। পিটিয়ে হত্যা করে গাছে লাশ ঝুলিয়ে পুড়ানোর ঘটনা ঘটেছে আবার অর্ধমৃত অবস্থায় শরীরে আগুন দেয়া হয়েছে। এসব থেকে প্রমাণিত হয় যে প্রতিটি হত্যা করা হয়েছে পরিকল্পিত ভাবে আর সেটাকে যতদূর সম্ভব বিভৎস রূপ দেয়া হয়েছে অন্যদের মধ্যে ভীতি সঞ্চার করার জন্য। সংবাদ মাধ্যমে এসব খবর যেভাবে প্রচার করা হয়েছে তাতে বিচারের দাবির চেয়ে ভীতির সঞ্চার প্রাধান্য পেয়েছে বলেই মনে হয়। বিশ্বের প্রতিটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের মত বাংলাদেশকেও অমুসলিম নাগরিক মুক্ত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলেই প্রতীয়মান হয়। আর সেটা হচ্ছে কতৃপক্ষের...

ফিজ চুক্তি

Image
ফিজের চুক্তি বাতিল নিয়ে জল ঘোলা করেই চলছে। আর সবচেয়ে বেশি করছে আসিফ নজরুল। অথচ এই লোক যদি তার নিজের চরকায় ঠিকঠাক তেল দিত, মানে যারা বিগত কয়েকদিনে বিনা উস্কানিতে কয়েকজন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোককে হত্যা ও তাদের দেহে অগ্নিসংযোগ করেছে, তাদের বিচারের আওতায় আনত তাহলে জল এতদূর গড়াত না। ভারতে সাধারণ মানুষের ক্ষোভের মূল কারণ সংখ্যালঘু হত্যা ও সরকারের নির্বিকার ভূমিকা। আর এই জনরোষ শেষ পর্যন্ত বাধ্য করেছে বিসিসিআই ও কেকেআর এর উপর চাপ সৃষ্টি করতে। এই চাপটা শুধু মৌলবাদীদের পক্ষ থেকেই ছিল না, বহু ভারতীয় ক্রিকেটার যারা সব সময় নিজেদের রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠিয়ে রেখেছে, তারাও বাংলাদেশে এই হত্যার নিন্দা করেছে এবং চুক্তি বাতিলের দাবি জানিয়েছে। আপনাদের ক্ষোভের কারণ যেমন ফিজের চুক্তি বাতিল, চুক্তি বাতিলের কারণ তেমনি এসব হত্যাকাণ্ড। আগে নিজের ঘর ঠিক করুন দেখবেন অন্যেরা তাহলে অবহেলা করবে না। শুরুটা নিজেকে দিয়েই হোক। মস্কো, ০৫ জানুয়ারি ২০২৬

ফিজ

Image
কেকেআর মুস্তাফিজুর রহমানের সাথে চুক্তি বাতিল করল। করল বাধ্য হয়ে। এটা নিঃসন্দেহে দুঃখজনক। ফিজের জন্য, ক্রিকেট প্রেমীদের জন্য, খেলার জন্য। তবে সার্বিক নিরাপত্তার জন্য এই পদক্ষেপ সঠিক বলেই মনে হয়। সেটা কেকেআর ও বিসিসিআই দুই পক্ষ থেকেই। স্বীকার করি বা না করি বর্তমান কালের অনেক ঘটনা দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক যারপরনাই খারাপ করেছে। সবচেয়ে যেটা উদ্বেগের বিষয় তা হল দুই দেশের মানুষের মধ্যে তিক্ততা বেড়েছে। শেষ কয়েকটি হত্যা ও লাশ পোড়ানোর ঘটনা বাংলার বাইরেও ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এতে যদিও ভারতীয় বাঙালিদের প্রতি হিন্দি ভাষাভাষীদের মনে সহানুভূতির সৃষ্টি হতে পারে তবে বাংলাদেশের মানুষের প্রতি আক্রোশ বাড়বে। এমতাবস্থায় যদি কেউ কোন ভাবে ফিজকে টার্গেট করে তার প্রতিক্রিয়া হবে সুদূরপ্রসারী। চাইলেই প্রতিটি দর্শকের সাথে একজন করে পুলিশ রাখা যাবে না আবার ফিজকেও পুলিশের বেষ্টনীতে রেখে খেলানো যাবে না। সারা বিশ্বের ধূলাবালি ঝেঁটিয়ে বিদায় করার চেয়ে পা কে জুতাবন্দি করা সহজ, সুলভ ও বুদ্ধিদীপ্ত। মাল্টিমিলিয়ন ডলারের ইভেন্টে আবেগ নয় হিসাব অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর। তাছাড়া এখন ভারতের মাটিতে ...

উল্টো রথ

Image
আমেরিকা ভেনেজুয়েলা আক্রমণ করেছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন মাডুরা সস্ত্রীক বন্দী ও তাদের তত্ত্বাবধানে আছেন। ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট ক্ষমতা গ্রহণ করেছেন ও মাডুরা যে জীবিত সেটা প্রমাণ করার জন্য ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। এখনও পর্যন্ত এ ঘটনায় ২০ জন প্রাণ হারিয়েছেন বলে শোনা যাচ্ছে। রাশিয়া ও চীনের সাথে সুসম্পর্ক থাকার পরও আমেরিকা ভেনেজুয়েলা আক্রমণ করার সাহস পেয়েছে কারণ এদের কেউই সরাসরি যুদ্ধে জড়িত হবে না। যেকোনো পরাশক্তিই সবার আগে নিজের জান মাল বাঁচাতে চায় আর চেষ্টা করে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ এড়িয়ে যেতে। ঠিক যেমনটি আমেরিকা ইউক্রেনের হয়ে লড়াইয়ে নামেনি যদিও অস্ত্র দিয়ে সাহায্য করেছে আর তার চেয়ে বেশি ব্যবসা করেছে। তার মানে এই নয় রাশিয়া বা চীন হাত গুটিয়ে বসে থাকবে। আমেরিকা যুদ্ধের চোরাবালিতে আটকে না গিয়ে খুব দ্রুত মাডুরাকে গ্রেফতার করেছে। এখন যদি তারা সেখানে থেকে যায় আর ভেনেজুয়েলার মানুষ ও সেনাবাহিনী প্রতিরোধ গড়ে তোলে তাহলে রাশিয়া ও চীন নিশ্চিত ভাবেই তাদের সাহায্য করবে। সেক্ষেত্রে ভেনেজুয়েলা আমেরিকার জন্য নতুন ভিয়েতনাম হলেও অবাক হবার কিছু থাকবে না।  রাশিয়া ইতিমধ্...